বিপদ থেকে মুক্তির দোয়া: কষ্ট, দুশ্চিন্তা ও সংকটের সময় করণীয়

দোয়া — যে কথোপকথন আমরা ভুলে গেছি

একটু ভাবো।

তুমি যখন সত্যিই কষ্টে পড়ো — মন ভেঙে যায়, রাত কাটে না, বুকের ভেতর একটা পাথর চাপা দিয়ে থাকে — তখন তুমি কার কাছে যাও?

বন্ধুকে ফোন করো? সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করো? গান ছেড়ে দাও?

কিন্তু তাঁর কাছে যাও কি — যিনি তোমাকে বানিয়েছেন?

দোয়া মানে শুধু প্রার্থনা না

দোয়া মানে একটা সম্পর্ক।

তুমি আর আল্লাহ — এই দুইয়ের মাঝে সবচেয়ে সরাসরি, সবচেয়ে খাঁটি সংযোগ। কোনো মাধ্যম নেই, কোনো অনুমতি লাগে না, কোনো প্রস্তুতি লাগে না।

আল্লাহ তাআলা নিজেই বলেছেন — “তোমরা আমার কাছে দোয়া করো, আমি কবুল করব।”

শুধু এটুকু। এর বেশি কিছু চাননি তিনি।

আর যে দোয়া করে না? সে অহংকারী — এটাও আল্লাহ নিজে বলেছেন। ভাবো একবার। আমরা অহংকারী না, কিন্তু আমরা ভুলে গেছি। আমরা ব্যস্ত হয়ে গেছি। আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি সব কিছু নিজে সামলাতে।

তিনি দেওয়ার জন্যই বসে আছেন

একটা কথা মাথায় রাখো —

আল্লাহ তোমার দোয়ার অপেক্ষায় আছেন। তুমি না চাইলে তিনি অসন্তুষ্ট হন। কারণ তিনি দিতে চান। তিনি শুনতে চান। তিনি তোমার গলার কাছের শিরার চেয়েও কাছে — আর তুমি দূরের মানুষের কাছে মন খুলছ।

একটু অদ্ভুত না?

দোয়া কবুল হয় না — এই ভুল ধারণা

অনেকে বলে, “আমি দোয়া করেছিলাম, হয়নি।”

তারপর হতাশ হয়ে দোয়া ছেড়ে দেয়।

কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন — দোয়ার উত্তর তিনভাবে আসে।

প্রথমত, তুমি যা চেয়েছ, সেটাই পেয়ে যাও।

দ্বিতীয়ত, তুমি হয়তো পাওনি — কিন্তু তোমার অজান্তে একটা বড় বিপদ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তুমি টের পাওনি, কিন্তু হয়েছে।

তৃতীয়ত, আল্লাহ সেই দোয়াটা ধরে রেখেছেন। দুনিয়ায় দেননি — আখেরাতে দেবেন। এবং সেদিন যখন পাবে, তখন মনে মনে বলবে — “ইশ, আল্লাহ যদি দুনিয়ায় দিতেন, কত ছোট পেতাম। এখন কত বড় পেলাম।”

তাহলে দোয়া কি কখনো বৃথা যায়?

না। কখনো না।

গোপনে কাঁদো

আল্লাহ একটা জিনিস সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন।

রাতের অন্ধকারে, কেউ দেখছে না, কোনো মাইক নেই, কোনো দর্শক নেই — শুধু তুমি আর তিনি। চোখ ভিজে গেছে। বুকটা ভারী। আর তুমি ফিসফিস করে বলছ — “ইয়া আল্লাহ, আমি ক্লান্ত।”

এই দোয়াটাই তাঁর সবচেয়ে প্রিয়।

হাজার মানুষের সামনে মাইকে লম্বা মোনাজাত না — এই ছোট্ট, একা, ভাঙা কণ্ঠের দোয়া।

জাকারিয়া আলাইহিস সালাম সন্তানের জন্য দোয়া করেছিলেন — একা, গোপনে, নিচু গলায়। আর আল্লাহ সেই দোয়া কবুল করেছিলেন।

আসলে আমরা কতটা দূরে চলে গেছি

আমরা ধর্মকে অনুষ্ঠান বানিয়ে ফেলেছি।

দোয়া এখন স্লিপে লেখা হয়। মাইকে পড়া হয়। দলে দলে করা হয়।

কিন্তু নবীজি সারাজীবন একা দোয়া করেছেন। নিজের ঘরে, নিজের রবের কাছে, নিজের ভাষায়।

তাঁর তরিকা ছেড়ে আমরা নিজেদের তরিকা বানিয়েছি। আর ভাবছি এটাই ঠিক।

আজ রাতে একটাই কাজ করো

ঘুমানোর আগে, বালিশে মাথা রাখার আগে, একটু থামো।

চোখ বন্ধ করো। আর বলো —

“ইয়া আল্লাহ, আমি ক্লান্ত। আমার কথা তুমি জানো। আমাকে একটু শান্তি দাও।”

লম্বা করতে হবে না। আরবিতে হতে হবে না। শুদ্ধ হতে হবে না।

শুধু সত্যি হতে হবে।

তিনি শুনছেন। সবসময়। তোমার প্রতিটা নিঃশ্বাসের চেয়েও কাছে থেকে। 🌙

আল্লাহ্‌ তায়ালা আছেন আসমানে

মহান আরশের উরধে সমুন্নত,

সবকিছু তাঁরই ক্ষমতা, জ্ঞান, দৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রণে

কোথাও কিছু নেই আল্লাহ্‌র মতো।

আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা। আল্লাহ ছাড়া কোনো ‘সত্য মাবুদ ‘ / ‘সত্য ইলাহ’ নেই। আল্লাহ তায়ালা আসমানে ‘আরশের ঊর্ধ্বে সমুন্নত। কোরআন আল্লাহর বাণী। আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় একমাত্র উপাস্য। আল্লাহ ব্যতীত ইবাদত পাবার যোগ্য কেউ নেই । মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল । .

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ্‌র

সকল ক্ষমতা ও সকল রাজত্ব,

সুন্দর নাম, পূর্ণ গুণ একমাত্র আল্লাহ্‌র

বিশুদ্ধ ও অবিভাজ্য তাঁরই একত্ব।

 

আপনি আল্লাহর কাছে অন্ধকার রাতে আপনিনিজের চোখের পানি ফেলে বলেন এটাই হলোসুন্নত তরিকা এটাই কবুল হলে বেশি আরসবাইকে নিয়ে মাইকে দোয়া করে নেওয়াহাজার হাজার মানুষের মধ্যে এই চিন্তাটাআসলে সুন্নতের পরিপন্থী আল্লাহ তালাআমাদেরকে তৌফিক দান করুন।

Leave a Comment