আগে শয়তানকে অনেক কষ্ট করতে হতো।
এখন করতে হয় না।
ফোনটাই তার কাজ করে দেয়।
স্ক্রোল করতে করতে হঠাৎ একটা ছবি। একটা ভিডিও। চাওনি, খোঁজোনি — তবু এলো। আর একবার চোখে পড়লে মাথা থেকে যায় না সহজে। সেই ছবি, সেই দৃশ্য — ঘুরতে থাকে। রাতে শুলে আসে। নামাজে দাঁড়ালে আসে।
তখন মনে হয় — আমি কি খুব খারাপ মানুষ?
না। তুমি খারাপ মানুষ না।
তোমার চোখ স্বাভাবিক। তোমার মন স্বাভাবিক। কিন্তু যে দুনিয়ায় তুমি বাস করছো, সেটা স্বাভাবিক না। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে — শুধু তোমার চোখের সামনে এই জিনিসগুলো আনার জন্য। তুমি একা এই স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছো।
এটা দুর্বলতা না। এটা যুদ্ধ।
এই মুহূর্তে যা করবে —
ফোন উল্টে রাখো। মুখ দিয়ে বলো — আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজিম। উঠে অযু করো। ঠান্ডা পানি মুখে দিলে মাথা একটু পরিষ্কার হয়।
অযুতে একটা শক্তি আছে — শয়তান অযুওয়ালা মানুষের কাছে সহজে ঘেঁষতে পারে না।
আর রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়ো। এটা শুধু অভ্যাস না — এটা তোমার মনের দরজায় একটা তালা।
রাসুলুল্লাহ (সা.) সর্বদা নিজেকে মন্দ আমল থেকে সুরক্ষিত রাখতে একটি ছোট ও কার্যকর দোয়া নিয়মিত পাঠ করতেন。
দোয়া:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ[]
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আমালি ওয়াল আহওয়ায়ি।
অর্থ:
“হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে গর্হিত চরিত্র, গর্হিত কাজ ও কু-প্রবৃত্তি থেকে আশ্রয় চাই।”
সবচেয়ে শক্তিশালী দোয়া কোনটি?
সবচেয়ে শক্তিশালী দোয়া হলো ‘ইসমে আজম‘ (আল্লাহর মহান নাম) এবং ইস্তিগফারের শ্রেষ্ঠ বাক্য ‘সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার‘। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন দোয়ার কথা উল্লেখ করেছেন যা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও শক্তিশালী।
সবচেয়ে কার্যকর ও শক্তিশালী কয়েকটি দোয়ার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. ইসমুল আজম (সবচেয়ে দ্রুত কবুল হওয়ার দোয়া)
হাদিস অনুযায়ী, এই দোয়াটি পড়ে আল্লাহর কাছে যা চাওয়া হয়, আল্লাহ তা কবুল করেন।
- আরবি:“لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ”
- উচ্চারণ:“লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন।”
- অর্থ:“তুমি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই; তুমি পবিত্র, নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।”
২. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া)
এটি ক্ষমা প্রার্থনার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ও কার্যকর দোয়া। এটি দিনে একবার নিষ্ঠার সাথে পড়লে জান্নাত নিশ্চিত হয়।
- আরবি:“اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ…”
- উচ্চারণ:“আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আন্তা খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা…”
- অর্থ:“হে আল্লাহ, আপনি আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার দাস…”
৩. বিপদমুক্তির দোয়া (ইউনুস (আ.)-এর দোয়া)
অসীম বিপদ বা মুসিবতে আল্লাহর সাহায্য পেতে এই দোয়াটি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে।
- আরবি:“حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ”
- উচ্চারণ:“হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল।”
- অর্থ:“আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।”
৪. দোয়ায়ে ইউনুস
- আরবি:“لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ”
- উচ্চারণ:“লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ-জ্বলিমিন।”
নির্দিষ্ট কোনো সমস্যার জন্য সুনির্দিষ্ট দোয়ার চেয়ে, খাঁটি মনে ও একিন (বিশ্বাস) নিয়ে আল্লাহর কাছে যেকোনো দোয়াই সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে।
একটু ভাবো।
আজকে কত ঘণ্টা স্ক্রোল করলে? Reels দেখলে, Shorts দেখলে — হাসলে হয়তো একটু, তারপর? কী রইলো হাতে?
কিছু না।
শুধু রইলো সেই বাজে ছবিগুলো, সেই অর্থহীন কথাগুলো — যেগুলো মাথা থেকে বের হতে চায় না।
শয়তান এখন আর পথে দাঁড়িয়ে ডাকে না। সে তোমার ফোনের ভেতরে বসে আছে। তুমি নিজেই প্রতিদিন তার কাছে যাচ্ছো — হাসিমুখে, স্বেচ্ছায়।
আর কাল কেয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে যখন দাঁড়াবে —
তিনি জিজ্ঞেস করবেন, “জীবনের সময়গুলো কোথায় গেল?”
সেদিন কী বলবে?
“Reels দেখেছিলাম।“
ব্যবসার কাজ না থাকলে, কোনো দরকার না থাকলে — ফোন রাখো। সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ রাখো। এটা দুর্বলতা না, এটা সাহস। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারাটাই আসল শক্তি।
দুনিয়ায় যে নিজেকে ধরে রাখতে পারলো — আখিরাতে সে-ই জিতলো।




























