“তুই উঠ এখান থেকে — রাকিব বসবে, ও সারাদিন অফিস করে আসে”
একটা বাক্য।
মাত্র একটা বাক্য।
কিন্তু সেই মুহূর্তে ভেতরে যা ভেঙে পড়ে — তার শব্দ কেউ শুনতে পায় না।
খেতে বসেও ডাইনিং টেবিল থেকে ক্ষিদে পেটে তুমি চুপচাপ উঠে যাও। কেউ খেয়ালও করে না। কিন্তু সেই মুহূর্তে মাথার ভেতরে একটাই কথা ঘুরতে থাকে —
“আমি কি এই ঘরে থাকারও যোগ্য নই?”
নিজেকে মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বোঝা। অপ্রয়োজনীয়। উদ্বৃত্ত।
আপন মানুষও যখন বিরক্ত হয়ে যায়….. কার কাছে বলবেন কার কাছে যাবেন আপনি তখন?
অথচ সারাদিন ঘরে থাকা মানে কিছু না করা নয়।
হয়তো সে চাকরি খুঁজছে। হয়তো বারবার ব্যর্থ হয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। হয়তো শুধু একটু সময় দরকার — নিজেকে গোছানোর, একটু শ্বাস নেওয়ার।
কিন্তু পরিবারের চোখে সে “বেকার।”
আর সেই একটা শব্দ ধীরে ধীরে তার পরিচয় হয়ে যায়। সে নিজেও একদিন বিশ্বাস করতে শুরু করে — হ্যাঁ, আমি আসলেই কিছু না।
এর চেয়ে বড় ক্ষতি আর কী হতে পারে?
বাইরে গেলে পৃথিবী প্রশ্ন করে।
ঘরে ফিরলে পরিবার তুলনা করে।
একটু বসতে গেলে মনে করিয়ে দেওয়া হয় — তুমি যথেষ্ট নও।
কোথাও যাওয়ার নেই। কোথাও নিরাপদ নেই। অথচ থাকতে হবে — কারণ বাস্তবতা আছে, নির্ভরতা আছে।
এই আটকে থাকার যন্ত্রণাটা কেউ দেখে না। কেউ বোঝে না।
যে মা-বাবা বা পরিবার এই কথাগুলো বলেন — তারা হয়তো জানেন না এটা কতটা গভীরে বিঁধে যায়।
একটি মানুষের সবচেয়ে বেশি দরকার হয় আশ্রয়ের — যখন সে ভেঙে পড়ে। আর সেই আশ্রয়টুকু যদি ঘর না দেয় — তাহলে সে দাঁড়াবে কোথায়?
ভালোবাসা কি শুধু সাফল্যের জন্য?
সন্তান যখন জিতছে তখন ভালোবাসা সহজ। কিন্তু যখন সে হারছে, হোঁচট খাচ্ছে, খুঁজছে — ঠিক তখনই তার পাশে থাকাটা আসল ভালোবাসা।
আর যদি তুমি সেই মানুষ হও যে এই মুহূর্তে এই কষ্ট বুকে বহন করছ —
নিজেকে একটা কথা বলো —
আমার মূল্য আমার চাকরির ট্যাগে নেই।
এই সময়টা কঠিন — কিন্তু এই সময়টাই তোমাকে গড়ছে, ভেতর থেকে, শক্তভাবে।
নিজেকে শক্ত করো। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও — তিনি কখনো ফেরান না যে সত্যিকারের মন নিয়ে চায়। আর নিজের যোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা ছেড়ো না।
ভেঙে পড়লেই হেরে যাবে।
কিন্তু যে দাঁড়িয়ে থাকে — ঝড়ের মধ্যেও — সে একদিন শিকড় গজায়।
তুমি এখনো আছ। তুমি এখনো চেষ্টা করছ।
এটাই যথেষ্ট। এটাই সাহস।




























